ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খুলনায় অসহায় ও দুঃস্থদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে দিঘলিয়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক আজকের একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোসাঃ শেখ সুমাইয়া শহীদ. স্টাফ রিপোর্টারঃ

খুলনা সহ সারাদেশে বর্তমান সরকার উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করে তাদের ভাগ্য উন্নয়ন ও সাহায্যার্থে ব্যাপক কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে গ্রামের দুঃস্থ ও অসহায় মহিলারা আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে।
এ দিকে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দিঘলিয়া উপজেলায় এ যাবত অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাপিয়া খাতুন (৩২) তাদের মধ্যে একজন। পাপিয়া খাতুন ১৫ দিনের স্যানিটরি প্যাড তৈরীর প্রশিক্ষণ এবং সেলাই মেশিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।এছাড়া খুলনার দিঘলিয়া ইউনিয়নের দেয়াড়া কলোনী কমিউনিটি সেন্টারে ভরসা ফাউন্ডেশনের ৩৫ জন মহিলা সদস্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পাট ও পাটজাত পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করে এবং সেগুলি বিক্রি করে সবাই স্বালম্বী হয়েছেন। পান্না খাতুন (২৫) নামে এক নারী সেলাই মেশিনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দিঘলিয়ায় টেইলার্স এর দোকান দিয়েছেন। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার ভিজিডি (দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচী), দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃকালীন ভাতা প্রদান, মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আইজিএ প্রকল্প, কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প, উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, উপকূলীয় নারীদের জীবন মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ এ ধরনের বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছে।এছাড়াও হত
দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃকালীন ভাতা প্রদান প্রকল্পের আওতায় ৩ বছর মেয়াদী গর্ভবতী ও প্রসব পরবর্তী মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় অসহায় ও দুঃস্থ একজন মহিলাকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ৫% সার্ভিস চার্জ (পরিশোধ যোগ্য) প্রদান করা হচ্ছে। এ দিকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনটি উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন দিবস উদযাপনের মাধ্যমে জনসাধারণকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, নারী পাচার, অটিজম, যৌতুক ও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।আইজিএ প্রকল্প অর্থাৎ (উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের আয় বর্ধক মূলক প্রশিক্ষণ) এ প্রকল্পের আওতায় ২ টি ট্রেডে (ফুড প্রসেসিং এবং ফ্যাশন ডিজাইন) এ ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি বরাদ্দের আলোকে ভাতা ও সনদ প্রদান করা হয়। উক্ত দিঘলিয়া উপজেলায় এ যাবত ৫৬০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বিগত দিনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২০ জন মহিলাকে মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে ভাতা ও ১ টি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। উপকূলীয় নারীদের জীবন মান উন্নয়নে ৬ টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩’ শ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।এছাড়া কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলাধীন ৬ টি ইউনিয়নে ৬ টি ক্লাব আছে। প্রতিটি ক্লাবে ২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোর সদস্য রয়েছে যাদেরকে একজন জেন্ডার প্রমোটর সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। এছাড়া প্রত্যেক ক্লাবে ২ জন সঙ্গীত ও ১ জন আবৃত্তির শিক্ষক আছেন যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল রয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে বিনা খরচে পারিবারিক সমস্যার সালিশি করা হয়। সংগ্রামী নারীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ। জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রতি বছর বেগম রোকেয়া দিবসে ৫ টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন সফল নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সফল জননী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সফল নারী, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সফল নারী, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন এমন নারী এবং নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে সফল হয়েছেন এমন ৫ টি ক্যাটাগরিতে নারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আর এ সব কিছুর পেছনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিপাশা দেবী তনু সরকার। উক্ত বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অত্র উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে (দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন) কর্মসূচীর মাধ্যমে ২ হাজার ৭৪৬ জন দুঃস্থ ও অসহায় মহিলাকে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদী প্রতিমাসে উপকারভোগী কে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ এনজিওর মাধ্যমে উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এসকল উপকারভোগীদের ২’শ টাকা করে সঞ্চয় নিজস্ব একাউন্টে জমা করে চক্র শেষে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খুলনায় অসহায় ও দুঃস্থদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে দিঘলিয়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ নভেম্বর ২০২১

মোসাঃ শেখ সুমাইয়া শহীদ. স্টাফ রিপোর্টারঃ

খুলনা সহ সারাদেশে বর্তমান সরকার উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করে তাদের ভাগ্য উন্নয়ন ও সাহায্যার্থে ব্যাপক কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে গ্রামের দুঃস্থ ও অসহায় মহিলারা আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে।
এ দিকে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দিঘলিয়া উপজেলায় এ যাবত অনেক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাপিয়া খাতুন (৩২) তাদের মধ্যে একজন। পাপিয়া খাতুন ১৫ দিনের স্যানিটরি প্যাড তৈরীর প্রশিক্ষণ এবং সেলাই মেশিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।এছাড়া খুলনার দিঘলিয়া ইউনিয়নের দেয়াড়া কলোনী কমিউনিটি সেন্টারে ভরসা ফাউন্ডেশনের ৩৫ জন মহিলা সদস্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পাট ও পাটজাত পণ্য সামগ্রী উৎপাদন করে এবং সেগুলি বিক্রি করে সবাই স্বালম্বী হয়েছেন। পান্না খাতুন (২৫) নামে এক নারী সেলাই মেশিনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দিঘলিয়ায় টেইলার্স এর দোকান দিয়েছেন। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার ভিজিডি (দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচী), দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃকালীন ভাতা প্রদান, মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আইজিএ প্রকল্প, কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প, উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, উপকূলীয় নারীদের জীবন মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ এ ধরনের বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছে।এছাড়াও হত
দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃকালীন ভাতা প্রদান প্রকল্পের আওতায় ৩ বছর মেয়াদী গর্ভবতী ও প্রসব পরবর্তী মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের আওতায় অসহায় ও দুঃস্থ একজন মহিলাকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ৫% সার্ভিস চার্জ (পরিশোধ যোগ্য) প্রদান করা হচ্ছে। এ দিকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনটি উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন দিবস উদযাপনের মাধ্যমে জনসাধারণকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন, নারী পাচার, অটিজম, যৌতুক ও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।আইজিএ প্রকল্প অর্থাৎ (উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের আয় বর্ধক মূলক প্রশিক্ষণ) এ প্রকল্পের আওতায় ২ টি ট্রেডে (ফুড প্রসেসিং এবং ফ্যাশন ডিজাইন) এ ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি বরাদ্দের আলোকে ভাতা ও সনদ প্রদান করা হয়। উক্ত দিঘলিয়া উপজেলায় এ যাবত ৫৬০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বিগত দিনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২০ জন মহিলাকে মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে ভাতা ও ১ টি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। উপকূলীয় নারীদের জীবন মান উন্নয়নে ৬ টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩’ শ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।এছাড়া কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলাধীন ৬ টি ইউনিয়নে ৬ টি ক্লাব আছে। প্রতিটি ক্লাবে ২০ জন কিশোরী ও ১০ জন কিশোর সদস্য রয়েছে যাদেরকে একজন জেন্ডার প্রমোটর সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। এছাড়া প্রত্যেক ক্লাবে ২ জন সঙ্গীত ও ১ জন আবৃত্তির শিক্ষক আছেন যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল রয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে বিনা খরচে পারিবারিক সমস্যার সালিশি করা হয়। সংগ্রামী নারীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ। জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রতি বছর বেগম রোকেয়া দিবসে ৫ টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন সফল নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সফল জননী, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সফল নারী, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সফল নারী, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন এমন নারী এবং নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে সফল হয়েছেন এমন ৫ টি ক্যাটাগরিতে নারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আর এ সব কিছুর পেছনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বিপাশা দেবী তনু সরকার। উক্ত বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অত্র উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে (দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন) কর্মসূচীর মাধ্যমে ২ হাজার ৭৪৬ জন দুঃস্থ ও অসহায় মহিলাকে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদী প্রতিমাসে উপকারভোগী কে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ এনজিওর মাধ্যমে উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এসকল উপকারভোগীদের ২’শ টাকা করে সঞ্চয় নিজস্ব একাউন্টে জমা করে চক্র শেষে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়।